
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের তৃতীয় দিনে আজ দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং আগামীকাল প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন। এই বৈঠকে চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ক্রয় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতেও পারে।
জে-১০সিই হলো চীনের আধুনিক Chengdu J-10C যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ। এই বিমান সংগ্রহ সম্পন্ন হলে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ হবে বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ, যারা এই সংস্করণ পরিচালনা করবে।
যদিও বাংলাদেশ ও চীন সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো না হলেও সামরিক প্রতিরক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ফোর্সেস গোল ২০৩০ কর্মসূচির আওতায় বিমান বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্ববাজারে প্রতিটি বিমানের মূল্য প্রায় ৪ কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। তবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্তাবলি নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
চুক্তি না হলেও এই নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া ইতোমধ্যেই নানান জল্পনা-কল্পনা তৈরি করছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই পদক্ষেপকে ভারতের বিরুদ্ধে একটি নতুন "দ্বিমুখী বিমান শক্তির" কথা বলা হচ্ছে। যা বাস্তবতার সঙ্গে কোনো মিল নেই বলে মনে করেন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
এই ইস্যুতে দিল্লির প্রায় সবগুলো মিডিয়া সম্ভাব্য এই চুক্তির বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করেছে। তারা বাংলাদেশের সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টি তাদের জন্য ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ হিসেবে দেখছে।
চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের যখন যেখানে যাওয়া প্রয়োজন সেখানেই যাব।’
ভারতীয় বিমান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডে বর্তমানে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে একাধিক ফাইটার স্কোয়াড্রন মোতায়েন রয়েছে। জে-১০সিই যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর বহরে যুক্ত হলে তা ভারতীয় বিমান সেনাদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকবে।
ড. মোহাম্মদ ইউনূস সরকারের সময়ে লালমনিরহাটের বিমান বাহিনীর ঘাঁটি পুনরায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত এই বিমানঘাঁটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১২–১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Siliguri Corridor-এর কাছাকাছি। এ ঘাঁটির উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সবসময় উন্নয়ন এবং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীনের সহযোগিতা থাকতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।
এর ফলে বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশ-চীন প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে Pakistan বিমানবাহিনীর বহরে ৩৬টি চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান রয়েছে। এছাড়া Indonesia-ও অন্তত ৪২টি জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
Author