
টমাস আলভা এডিসন একশ বছর আগে যে বিদ্যুৎ বাতিটা আবিষ্কার করেছিলো, ইরান যুদ্ধের পর সেই বাতিটা গতকাল ট্রাম্প আবার আবিষ্কার করছে! আর তারপর ঘোষণা দিছে যে, ইরান আর পারমানবিক বোমা বানাবে না।
অথচ ইরানের খামেনি দুই যুগ আগেই ফতোয়া দিয়ে পারমানবিক বোমা নিষিদ্ধ ঘোষণা করছিলেন। ইরান যে ইউরেনিয়াম ৬০% সমৃদ্ধ করে বসে আছে, ৯০% করছে না, অথবা বোমা বানাচ্ছে না, তা মূলত ঐ ফতোয়ার কারণে। [ বোমা না বানালেও ইউরেনিয়াম যে বোমা বানানোর কাছাকাছি পর্যায়ে নিয়ে রাখছে তা মূলত ইসরায়েল আর আরব গাণ্ডুদের চাপে রাখার জন্য]। তা যাই হোক, ইরান সবসময় বলে আসছে, তারা এটম বোমা বানাবে না। বিশ বছর আগে বলছে, যুদ্ধের আগে বলছে, এখনো বলছে।
কিন্তু ফেসবুকের এক দল গরু দেখলাম, নতুন এই বলাটারে ইরানের মাথা নোয়ানো হিসেবে দেখছে। এই যুদ্ধে ইরানের যতই ক্ষতি হোক, ইরান মাথা নোয়ায় নাই, মাথা আমেরিকা আর আরব দেশগুলো নোয়াইছে। কার কত লোক মারা গেছে কার কত অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে সেই সংখ্যার উপর যুদ্ধে জয় পরাজয় নির্ভর করে না। তেমন হলে ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানরে জয়ী বলা হতো। তা তো না, যুদ্ধে পাকিস্তানের মানুষ তেমন মারা না গেলেও, তাদের ব্রীজ বা অবকাঠামো ধ্বংস না হলেও তারা হারছে।
আর বাংলাদেশ জিতছে। লাখ লাখ মানুষ মারা যাওয়ার পরও, দেশের সব অবকঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরও। একই ভাবে আমেরিকা আর আরবরাও এই যুদ্ধে গো হারা হারছে, ইরান জিতছে।
আর ইরানের এই জয়ের ফলে আজ থেকে একটা নতুন পৃথিবীর শুরু হলো। যে পৃথিবীতে কারো একক মাস্তানী থাকবে না। শামসুর রাহমানের একটা কবিতার লাইন দিয়ে শেষ করি,
"প্রলয়ে হইনি পলাতক,
নিজস্ব ভূভাগে একরোখা
এখনও দাঁড়িয়ে আছি,
এ আমার এক ধরনের অহংকার।"
লেখাটি কবি ইমতিয়াজ মাহমুদের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে নেওয়া
Author
৬ জুলাই, ২০২৬