
ভদ্রলোকের নাম খাইরুল ইসলাম সজীব। নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতা। বাবা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির এমপি আজহারুল ইসলাম। গেল কিছু দিনে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে, তার সঙ্গে অবশ্য ভদ্রতার কোনো পরিচয় মেলে না।
শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জ। সেখানে নানা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান রয়েছে। চাঁদাবাজির হাবও বটে। আর সেই সুযোগই নিচ্ছিলেন সজীব। তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তর চাঁদাবাজির অভিযোগ আসছিল। বিশেষত একটি বড় ব্যবসায়িক গ্রুপের গাড়ি আটকে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।
তাঁকে আটকের খবর যখন চাউর হয়, তখন একধরনের চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। শত হলেও তিনি এমপিপুত্র। যুবদল অবশ্য দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
কিন্তু পুলিশ এ ঘটনা নিয়ে খুব বেশি দূর এগোয়নি। নিশুতি রাতেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অবশ্য মুচলেকা নিতে ভুল করেনি পুলিশ। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
সজীবের মুক্তির ব্যাপারে যা জানা গেল:
প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, “সজীবের বিরুদ্ধে ওই এলাকার একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। পরে তাঁকে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ছিল। সেই বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই চলছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একটি বড় শিল্প গ্রুপের গাড়ি আটকে রেখে চাঁদা দাবি করে সজীবের লোকজন। পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই শিল্প গ্রুপের বাইরেও বিভিন্ন কারখানার পণ্যবাহী গাড়ি আটকে দিয়ে টাকা আদায় এবং ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
সজীব নিজে জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। হেফাজতে নেওয়ার পর তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা অনিয়মে জড়িত থাকার সুষ্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ ও একাধিক শিল্পকারখানার সূত্র বলছে, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও কাঁচপুর এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সজীবের বিরুদ্ধে। চাহিদামতো টাকা না পেলে কারখানার পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে।”
গত মাসে যুগান্তর পত্রিকার একটি সংবাদ অনুযায়ী:
“কুমিল্লায় মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়া পান বিএনপি নেতা রেজাউল কাইয়ুম। আটকের সাড়ে ১২ ঘণ্টা পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমকে রাত ১২টার দিকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিক ওই বিএনপি নেতার কাছ থেকে মুচলেকা নেন। এরপর আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হানের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শহরতলির শাসনগাছার বাসা থেকে রেজাউল কাইয়ুমকে আটক করেন কোতোয়ালি মডেল থানা ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, রেজাউল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে কুমিল্লার শাসনগাছা বাস টার্মিনালের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগে তাঁকে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তাঁকে কোন কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খোলেনি পুলিশ। সোমবার বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান গণমাধ্যমকে এড়িয়ে যান।”
Author