Saturday, September 19, 2026 | আশ্বিন ৪, ১৪৩৩ | ৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
Policy Paper
হোমদেশরাজনীতি ও পলিসিঅর্থকড়িদুনিয়াসম্পাদকের বাছাইআমাদের সম্পর্কেযোগাযোগ
Policy Paper

নীতি বিশ্লেষণ, রাজনৈতিক ধারাভাষ্য এবং বৈশ্বিক খবরের জন্য আপনার বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম।

জনপ্রিয় বিভাগ

  • দেশ
  • রাজনীতি ও পলিসি
  • অর্থকড়ি
  • দুনিয়া
  • সম্পাদকের বাছাই
  • খেলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • স্বাস্থ্য, পরিবেশ
  • শিক্ষা
  • ধর্ম ও দর্শন

যোগাযোগ

  • ৬ ইসরাত টাওয়ার, পুরানা পল্টন, ঢাকা
  • +8801316248159

নিউজলেটার

আপডেট পেতে চান? নিচে আপনার ইমেইল দিন — আমরা চালু হলেই খবর পাঠাব।

© 2026 Policy Paper। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Developed by DataMart BD Limited

গোপনীয়তা নীতিপরিষেবার শর্তাবলী
রাজনীতি ও পলিসি

তারেকের প্রথম সফর: ভারত বাদ দিয়ে মালেশিয়া হয়ে চীন কেনো?

বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক পথচলা, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং তিস্তা প্রশ্ন

মা‌নিক মিয়াজীমা‌নিক মিয়াজী
২১ জুন, ২০২৬
তারেকের প্রথম সফর: ভারত বাদ দিয়ে মালেশিয়া হয়ে চীন কেনো?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন সরকারের ক্ষমতায় আগমন প্রায়শই পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন অগ্রাধিকার ও কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের সূচনা করে। বিশেষ করে যখন কোনো নতুন নেতা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ, আঞ্চলিক শক্তির প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ক্ষমতায় আসেন, তখন তাঁর প্রথম বিদেশ সফর শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক ঘটনা থাকে না; বরং সেটি হয়ে ওঠে ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনার প্রতীক।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ এমন একটি অবস্থানে রয়েছে যেখানে ভারত ও চীনের প্রভাব, প্রতিযোগিতা এবং কৌশলগত স্বার্থ সরাসরি দৃশ্যমান। ফলে নতুন সরকারের প্রথম বিদেশ সফর ভারত অথবা চীন—এই দুই শক্তিধর প্রতিবেশীর যে কোনো একটিতে হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক আলোচনা ছিল।

কিন্তু সেই প্রত্যাশা ভেঙে প্রথম গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া বাংলাদেশের নতুন সরকারের একটি সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এরপর চীন সফরের কর্মসূচি শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক কৌশল, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রশ্নকে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

প্রথম বিদেশ সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য

বিশ্ব রাজনীতিতে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের প্রথম বিদেশ সফরকে অত্যন্ত প্রতীকী ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। কারণ এই সফর প্রায়শই নতুন সরকারের অগ্রাধিকার, অংশীদার নির্বাচন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখার ইঙ্গিত বহন করে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান, দ্রুত শিল্পায়ন, জনসংখ্যাগত শক্তি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্ভাবনার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কাছে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশের শুভেচ্ছা বার্তায় দেখা গেছে। বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রথম স্বপরিবারে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এর পরেই চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে বেইজিংয়ের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। ভারত, চীন ও জাপানের মতো এশিয়ার তিন গুরুত্বপূর্ণ শক্তির এই দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক অবস্থান এবং কৌশলগত অগ্রাধিকারকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

এই অবস্থায় নতুন প্রধানমন্ত্রী যদি প্রথমেই ভারত সফরে যেতেন, তাহলে অনেকের কাছে সেটি ভারতের প্রতি বিশেষ ঝোঁকের বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতো। অন্যদিকে প্রথম সফর যদি চীনে হতো, তাহলে বাংলাদেশকে চীনা প্রভাব বলয়ের দিকে আরও এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হতে পারত। ফলে একটি তৃতীয় দেশ নির্বাচন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

কেন মালয়েশিয়া?

মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। দেশটিতে কয়েক লক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি প্রভাবশালী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), আসিয়ান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দেশটির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার গুরুত্ব কয়েকটি কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:

বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। নতুন সরকারের জন্য শ্রমিক প্রেরণ, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ

বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পখাতে মালয়েশিয়ান বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। অবকাঠামো, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং হালাল শিল্প খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি দুই দেশের জন্যই লাভজনক হতে পারে। মালয়েশিয়া উচ্চশিক্ষা ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

ভারত-চীন প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়” নীতির অনুসরণ করে এসেছে। কিন্তু বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এই নীতি বাস্তবায়ন ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষত ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত, ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতা রয়েছে। অন্যদিকে গত দুই দশকে চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী ও অবকাঠামো বিনিয়োগকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ফলে বাংলাদেশকে একদিকে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উদ্বেগ বিবেচনা করতে হয়, অন্যদিকে চীনের অর্থনৈতিক সুযোগগুলোকেও কাজে লাগাতে হয়। মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে নির্বাচন এই ভারসাম্য রক্ষার কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা যেতে পারে।

চীন সফরের তাৎপর্য

মালয়েশিয়া সফরের পরপরই চীন সফরের সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় যে ঢাকা বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

চীন বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশে বহু বড় অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা রয়েছে। সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহাসড়ক, টানেল এবং শিল্পাঞ্চল উন্নয়নে চীনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। নতুন সরকারের জন্য চীন সফরের মূল লক্ষ্য হতে পারে—

নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন নিশ্চিত করা, আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পে অংশগ্রহণ

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এই বৈঠকে আলোচিত হতে পারে— দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শিল্প বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা।

এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-চীন সম্পর্কের প্রভাবও আলোচনার বিষয় হতে পারে।

তিস্তা প্রশ্ন: কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত ইস্যু হলো তিস্তা নদীর পানি বণ্টন। তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জীবিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে তিস্তার ন্যায্য পানি বণ্টন খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীন এবং তিস্তা প্রকল্প

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্পে চীনের আগ্রহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদি বাংলাদেশ তিস্তা অববাহিকার উন্নয়নে চীনা সহায়তা গ্রহণ করে, তাহলে তা আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ভারত সাধারণত সীমান্তবর্তী কৌশলগত এলাকায় চীনের উপস্থিতি নিয়ে সংবেদনশীল।

ফলে তিস্তা প্রশ্ন শুধু পানি বণ্টনের বিষয় নয়; এটি আঞ্চলিক কৌশলগত প্রতিযোগিতারও অংশ।

বিএনপি সরকারের সম্ভাব্য পররাষ্ট্রনীতি

যদি নতুন সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে তাদের পররাষ্ট্রনীতি সম্ভবত হবে বাস্তববাদী ও বহুমাত্রিক।

এই নীতির মূল বৈশিষ্ট্য হতে পারে—

১. ভারত ও চীনের মধ্যে ভারসাম্য।

২. যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ।

৩. মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ আকর্ষণ।

৪. আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার।

৫. বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা।

মালয়েশিয়া-চীন সফরের সম্ভাব্য বার্তা

এই সফর দুটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে। প্রথমত, বাংলাদেশ কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভর করতে চায় না। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক কূটনীতি নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তৃতীয়ত, আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মধ্যেও ঢাকা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে আগ্রহী। চতুর্থত, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সংযোগ গড়ে তুলতে চায়।

বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ

তবে এই কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা সহজ নয়। ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ, চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কভাবে পথ চলতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কৌশলগত স্বাধীনতার মধ্যে সমন্বয় করাই হবে নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়াকে নির্বাচন এবং পরবর্তীতে চীন সফরের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে। এটি এমন এক বার্তা দেয় যে ঢাকা আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে চায়।

মালয়েশিয়া সফর শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে চীন সফর অবকাঠামো, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

একই সঙ্গে তিস্তা প্রশ্নের মতো দীর্ঘদিনের জটিল ইস্যু নতুন আলোচনার সুযোগ পেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করতে হবে, যাতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজের জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চভাবে সুরক্ষিত থাকে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য নির্ভর করবে কতটা দক্ষতার সঙ্গে দেশটি ভারত, চীন, আসিয়ান, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমান্তরালভাবে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে তার ওপর। মালয়েশিয়া ও চীন সফর সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক যাত্রার সূচনাপর্ব হিসেবে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে।

শেয়ার করুন:
মা‌নিক মিয়াজী

মা‌নিক মিয়াজী

Author

সম্পর্কিত খবর

কাজ করছে সরকার, ন্যারেটিভ বানাচ্ছে বিরোধীরা—চাপা পড়ছে উন্নয়ন!

কাজ করছে সরকার, ন্যারেটিভ বানাচ্ছে বিরোধীরা—চাপা পড়ছে উন্নয়ন!

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হাবশি-গোলামদের জন্য শেখ সেলিমই ঠিক আছেন

হাবশি-গোলামদের জন্য শেখ সেলিমই ঠিক আছেন

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সরকার কেমন করছে?

সরকার কেমন করছে?

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফুপুর সমালোচনায় তাপস, আয়নায় মুখ দেখলেন না

ফুপুর সমালোচনায় তাপস, আয়নায় মুখ দেখলেন না

৩১ আগস্ট, ২০২৬

ভিডিও

সব দেখুন
সরকার কেমন করছে?

সরকার কেমন করছে?

১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ভারত কেন তারেক রহমানকে দিল্লি নিতে মরিয়াি

ভারত কেন তারেক রহমানকে দিল্লি নিতে মরিয়াি

২৯ আগস্ট, ২০২৬
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল

১৫ আগস্ট, ২০২৬

জনপ্রিয় খবর

মক্কায় ড্রোন ও ইসরায়েল প্রসঙ্গ

মক্কায় ড্রোন ও ইসরায়েল প্রসঙ্গ

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জুলাই বিপ্লবের আবাবিল পাখিরা

জুলাই বিপ্লবের আবাবিল পাখিরা

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
মক্কায় ড্রোন: সৌদির দাবি; হুতিদের না

মক্কায় ড্রোন: সৌদির দাবি; হুতিদের না

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পুলক ভাগ‍্যবান!

পুলক ভাগ‍্যবান!

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ক্যাটাগরি

  • দেশ>
  • রাজনীতি ও পলিসি>
  • অর্থকড়ি>