Thursday, July 9, 2026 | আষাঢ় ২৫, ১৪৩৩ | ২৪ মুহররম ১৪৪৮ হিজরি
Policy Paper
হোমদেশরাজনীতি ও পলিসিঅর্থকড়িদুনিয়াসম্পাদকের বাছাইআমাদের সম্পর্কেযোগাযোগ
Policy Paper

নীতি বিশ্লেষণ, রাজনৈতিক ধারাভাষ্য এবং বৈশ্বিক খবরের জন্য আপনার বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম।

জনপ্রিয় বিভাগ

  • দেশ
  • রাজনীতি ও পলিসি
  • অর্থকড়ি
  • দুনিয়া
  • সম্পাদকের বাছাই
  • খেলা
  • বিনোদন
  • মতামত
  • স্বাস্থ্য, পরিবেশ
  • শিক্ষা
  • ধর্ম ও দর্শন

যোগাযোগ

  • ৬ ইসরাত টাওয়ার, পুরানা পল্টন, ঢাকা
  • +8801316248159

নিউজলেটার

আপডেট পেতে চান? নিচে আপনার ইমেইল দিন — আমরা চালু হলেই খবর পাঠাব।

© 2026 Policy Paper। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Developed by DataMart BD Limited

গোপনীয়তা নীতিপরিষেবার শর্তাবলী
খেলা

ফুটবলপ্রেম, বিকেএসপি এবং বিশ্বকাপের পথে বাংলাদেশ

মা‌নিক মিয়াজীমা‌নিক মিয়াজী
২২ জুন, ২০২৬২৮৪ ভিউ
ফুটবলপ্রেম, বিকেএসপি এবং বিশ্বকাপের পথে বাংলাদেশ

প্রতি চার বছর পরপর বাংলাদেশের আকাশে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায়। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রাজধানীর বহুতল ভবনের ছাদ পর্যন্ত উড়তে থাকে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানি, ফ্রান্স কিংবা অন্যান্য ফুটবল পরাশক্তির পতাকা। রাস্তার মোড়ে, চায়ের দোকানে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আড্ডায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে—সবখানেই ফুটবল নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক, আনন্দ ও হতাশার ঢেউ ওঠে।

এমন ফুটবলপ্রেম বিশ্বের খুব কম দেশেই দেখা যায়। অথচ যে জাতি ফুটবলকে এত ভালোবাসে, সেই জাতি আজও বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করে নিতে পারেনি। এই বৈপরীত্যই বাংলাদেশের ফুটবল বাস্তবতার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সমস্যা কি প্রতিভার অভাবে? নাকি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনার ঘাটতিতে? বাংলাদেশের ফুটবল কি ব্যর্থ হয়েছে, নাকি তাকে সফল হওয়ার মতো পরিবেশই দেওয়া হয়নি?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে ইতিহাস, প্রতিষ্ঠান, নীতি এবং ভবিষ্যতের দিকে।

পেলের গল্প থেকে মেসির যুগ

বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা নতুন নয়। স্বাধীনতার আগে-পরে ফুটবল ছিল এ অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। একসময় স্কুলের পাঠ্যবইয়ে পেলের জীবনী পড়ানো হতো। কালো মানিক পেলের দারিদ্র্য জয় করে বিশ্বসেরা হয়ে ওঠার গল্প শিশুদের অনুপ্রাণিত করত।

আশির দশকে বিটিভির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল দেশের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে শুরু করে। পরে স্যাটেলাইট টেলিভিশনের বিস্তার বিশ্ব ফুটবলকে আরও সহজলভ্য করে তোলে।

মারাডোনার জাদুকরী ড্রিবল, পেলের কিংবদন্তি, রোমারিওর গোল, রোনালদোর গতি, জিদানের শিল্প, রোনালদিনহোর হাসিমাখা ফুটবল, মেসির বিস্ময়কর প্রতিভা—সবকিছু মিলে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমকে একটি সাংস্কৃতিক পরিচয়ে পরিণত করেছে।

ফুটবল এখানে কেবল একটি খেলা নয়; এটি স্মৃতি, আবেগ, বন্ধুত্ব, তর্ক, উৎসব এবং সামাজিক পরিচয়ের অংশ।

বাংলাদেশের ফুটবলের স্বর্ণযুগ

একসময় বাংলাদেশের ফুটবলই ছিল দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ঢাকা স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শক সমাগম হতো। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ মানেই ছিল জাতীয় উত্তেজনা। স্থানীয় লিগের তারকারা ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ফুটবল টুর্নামেন্ট ছিল সামাজিক উৎসবের অংশ। তখন ক্রিকেট এখনও জাতীয় আবেগের কেন্দ্রে পৌঁছায়নি। ফুটবলই ছিল মানুষের প্রথম ভালোবাসা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতা বদলাতে শুরু করে।

ক্রিকেটের উত্থান এবং ফুটবলের স্থবিরতা

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জন করতে শুরু করে। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকতা, গণমাধ্যমের মনোযোগ এবং জনসমর্থন ক্রমশ ক্রিকেটের দিকে সরে যায়। ফুটবল জনপ্রিয়তায় টিকে থাকলেও অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ, প্রশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় পিছিয়ে পড়ে। ফলে বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেম বাড়তে থাকে, কিন্তু ফুটবলের মান উন্নয়ন একই গতিতে এগোয় না।

বিশ্বকাপের পথে বাংলাদেশের ২০ বছরের রোডম্যাপ কি হতে পারে-

বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রায়ই একটি প্রশ্ন সামনে আসে—বাংলাদেশ কি কখনও ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে পারবে? অনেকেই এই প্রশ্নের উত্তরে সংশয় প্রকাশ করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, ধারাবাহিক বিনিয়োগ এবং দক্ষ প্রতিষ্ঠান নির্মাণের ফল।

বাংলাদেশের জনসংখ্যা, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ফুটবলের প্রতি অসাধারণ আবেগ বিবেচনায় নিলে বিশ্বকাপের স্বপ্ন অবাস্তব নয়। তবে এর জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে দুই দশকব্যাপী একটি সুসংগঠিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা।

প্রথম ধাপে, অর্থাৎ ২০২৭ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে, বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নের ভিত্তি নির্মাণ করতে হবে। এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে প্রতিভা অনুসন্ধান এবং প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করা। দেশের প্রতিটি বিভাগে আধুনিক ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের ৬৪টি জেলায় ট্যালেন্ট স্কাউটিং ইউনিট গড়ে তুলতে হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান শিশুরাও জাতীয় কাঠামোর আওতায় আসতে পারে।

এর পাশাপাশি স্কুল পর্যায়ের ফুটবলকে নতুন করে পুনর্জীবিত করতে হবে। জাতীয় স্কুল ফুটবল লীগ চালু করে স্কুলভিত্তিক প্রতিযোগিতাকে বাধ্যতামূলক ও নিয়মিত রূপ দিতে হবে। কারণ বিশ্বের প্রায় সব সফল ফুটবল দেশের ভিত্তি তৈরি হয়েছে স্কুল ও যুব পর্যায়ের প্রতিযোগিতা থেকে। একই সময়ে অন্তত এক হাজার লাইসেন্সধারী কোচ তৈরি করতে হবে, যারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে সক্ষম হবেন। এই পর্যায়ের লক্ষ্য হবে একটি শক্তিশালী ফুটবল অবকাঠামো গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যৎ উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

দ্বিতীয় ধাপ, অর্থাৎ ২০৩৩ থেকে ২০৩৮ সাল, হবে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনের সময়। এই পর্যায়ে দেশের পেশাদার ফুটবল লীগকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। ক্লাবগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা, যুব উন্নয়ন বাধ্যবাধকতা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি টেকসই লীগ কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

একই সঙ্গে ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের উন্নত ফুটবল প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা জরুরি। বিদেশি ক্লাব, একাডেমি এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খেলোয়াড়কে বিদেশে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা গেলে তারা দেশে ফিরে নতুন প্রজন্মের জন্য উদাহরণ ও সম্পদে পরিণত হবে।

তৃতীয় ধাপ, ২০৩৯ থেকে ২০৪৬ সাল, হবে বাংলাদেশের ফুটবলকে এশিয়ার প্রতিযোগিতামূলক শক্তিতে রূপান্তর করার সময়। এই পর্যায়ে লক্ষ্য থাকবে অন্তত ৫০০ পূর্ণকালীন পেশাদার ফুটবলার তৈরি করা, যারা দেশি ও বিদেশি লিগে নিয়মিত খেলবেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্তরে প্রায় ১০,০০০ প্রশিক্ষিত ও লাইসেন্সধারী কোচ গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি বিস্তৃত প্রশিক্ষণ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এই সময়ে ক্রীড়া বিজ্ঞানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আধুনিক ফুটবল কেবল প্রতিভার ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পুষ্টিবিজ্ঞান, ফিটনেস ম্যানেজমেন্ট, স্পোর্টস মেডিসিন, পারফরম্যান্স অ্যানালিটিক্স এবং ক্রীড়া মনোবিজ্ঞান। ফলে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস সায়েন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে এই পর্যায়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৈজ্ঞানিকভাবে উন্নত করা সম্ভব হবে।

সবশেষে, ২০৪৭ থেকে ২০৫০ সাল হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযানের চূড়ান্ত ধাপ। তখন লক্ষ্য থাকবে শুধু অংশগ্রহণের স্বপ্ন দেখা নয়, বরং বাস্তবিক অর্থে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ ধাপ পর্যন্ত পৌঁছানো। এশিয়ার শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা অর্জন করা এবং শেষ পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়াই হবে এই পর্যায়ের কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য।

এটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য হলেও অসম্ভব নয়। কারণ বিশ্বের বহু দেশ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে এই পথ অতিক্রম করেছে।

বিনিয়োগ নয়, ভবিষ্যতের জন্য রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার

অনেকে মনে করতে পারেন, এমন একটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। কিন্তু জাতীয় অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে হিসাব করলে দেখা যায়, বিষয়টি মোটেও অযৌক্তিক নয়।

পরবর্তী দুই দশকে প্রায় ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ কোটি টাকার একটি জাতীয় ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। অর্থাৎ বছরে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। জাতীয় বাজেটের সামগ্রিক আকারের তুলনায় এটি একটি সীমিত ব্যয়।

তবে এটিকে ব্যয় হিসেবে না দেখে মানবসম্পদ উন্নয়ন, জাতীয় ব্র্যান্ডিং এবং সামাজিক পুঁজি তৈরির দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত। একটি সফল জাতীয় ফুটবল কর্মসূচি শুধু খেলোয়াড় তৈরি করে না; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করে, সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উন্নত করে।

বিকেএসপি ২.০: বাংলাদেশের ফুটবল বিপ্লবের কেন্দ্র

বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে একটি নতুন ধারণা—‘বিকেএসপি ২.০’।

অতীতের বিকেএসপি বাংলাদেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে অসংখ্য প্রতিভা তৈরি করেছে। কিন্তু ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং গবেষণাভিত্তিক রূপ দিতে হবে।

ভবিষ্যতের বিকেএসপি কেবল একটি আবাসিক ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবে না; এটি হবে দেশের জাতীয় স্পোর্টস সায়েন্স হাব। এখানে

খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা, পুষ্টি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং পারফরম্যান্স বিশ্লেষণের জন্য আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

একই সঙ্গে একটি ডেটা অ্যানালিটিক্স সেন্টার গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে সারা দেশের খেলোয়াড়দের তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা হবে। খেলোয়াড়ের উন্নয়ন, ফিটনেস এবং সম্ভাবনা মূল্যায়নে এই তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিষ্ঠানটির অধীনে একটি আন্তর্জাতিক কোচিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যেখানে দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আধুনিক কোচ তৈরির কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি একটি ফুটবল গবেষণা কেন্দ্র দেশের ফুটবল উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী নীতি প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণের কাজ করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিকেএসপিকে একটি জাতীয় প্রতিভা উন্নয়ন নেটওয়ার্কের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের ফুটবল কাঠামোকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিকেএসপির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তৃণমূল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক উন্নয়ন ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের ফুটবল পুনর্জাগরণের স্বপ্ন যদি বাস্তবে রূপ নিতে হয়, তাহলে সেই যাত্রার কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হতে পারে এই আধুনিক, গবেষণাভিত্তিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর ‘বিকেএসপি ২.০’।

বাংলাদেশের আকাশে উড়তে থাকা লাখো আর্জেন্টিনা কিংবা ব্রাজিলের পতাকা আসলে অন্য দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক নয়; এগুলো ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ।

সেই পতাকার ভিড়ে লুকিয়ে আছে আরেকটি স্বপ্ন—একদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়বে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন না অলৌকিক প্রতিভার, না আবেগঘন স্লোগানের।

প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার, দীর্ঘমেয়াদী নীতি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং ধারাবাহিক বিনিয়োগ। বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলপ্রেম নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

এখন প্রশ্ন একটাই—রাষ্ট্র কি সেই ভালোবাসাকে একটি জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পে রূপ দিতে প্রস্তুত? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আজকের স্বপ্ন আগামী প্রজন্মের বাস্তবতায় পরিণত হতে পারে।

আর সেদিন বাংলাদেশের আকাশে উড়তে থাকা লাখো বিদেশি পতাকার পাশে বিশ্বকাপের মূল আসরে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাও সমান গর্বে উড়বে।

শেয়ার করুন:
মা‌নিক মিয়াজী

মা‌নিক মিয়াজী

Author

সম্পর্কিত খবর

ফিফা থেকে মেসির দল কি কি সুবিধা পাচ্ছে?

ফিফা থেকে মেসির দল কি কি সুবিধা পাচ্ছে?

৯ জুলাই, ২০২৬

ডেভিসের রায়ঃ রেফারি ঠিকই ছিলেন

ডেভিসের রায়ঃ রেফারি ঠিকই ছিলেন

৮ জুলাই, ২০২৬

মেসি খোলাসা করলেন না!

মেসি খোলাসা করলেন না!

১৭ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপ   টানছে না!

বিশ্বকাপ টানছে না!

১১ জুন, ২০২৬

ভিডিও

সব দেখুন
Can Cockroach Janta Party Do The Impossible? | Rise Of Gen-Z Revolt In India? | Akash Banerjee

Can Cockroach Janta Party Do The Impossible? | Rise Of Gen-Z Revolt In India? | Akash Banerjee

২৩ মে, ২০২৬
ম্যারাডোনার ‘রেকর্ড’ ভাঙার পথে মেসি

ম্যারাডোনার ‘রেকর্ড’ ভাঙার পথে মেসি

২৩ মে, ২০২৬

জনপ্রিয় খবর

বড় পদে তাহের, রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

বড় পদে তাহের, রাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

৯ জুলাই, ২০২৬
ফিফা থেকে মেসির দল কি কি সুবিধা পাচ্ছে?

ফিফা থেকে মেসির দল কি কি সুবিধা পাচ্ছে?

৯ জুলাই, ২০২৬
ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি চীনকেও কাছে টানছে বাংলাদেশ

ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি চীনকেও কাছে টানছে বাংলাদেশ

৮ জুলাই, ২০২৬
বাংলাদেশে ভারতের একক প্রাধান্যের যুগ স্পষ্টভাবেই শেষ — ‘বাংলাদেশ ২.০’ নিয়ে জন ড্যানিলোভিচ

বাংলাদেশে ভারতের একক প্রাধান্যের যুগ স্পষ্টভাবেই শেষ — ‘বাংলাদেশ ২.০’ নিয়ে জন ড্যানিলোভিচ

৭ জুলাই, ২০২৬

ক্যাটাগরি

  • দেশ>
  • রাজনীতি ও পলিসি>
  • অর্থকড়ি>