
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান আর বাংলাদেশের ইতিহাস—যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে মিশে আছে একে অন্যের সাথে। আর সেসব আবেগ-অনুভূতি জড়ানো আছে অগণিত ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত চাদরে। অর্ধশতাব্দীর স্বাধীন এ দেশটায় এ এক অভূতপূর্ব, নজিরবিহীন অধ্যায়।
কেননা, রক্তমাখা এ গণ-অভ্যুত্থানের অগ্নিকুণ্ডে পড়েই পতন ঘটেছিল বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশবাসীর কাঁধে চেপে বসা স্বৈরাচারী, চক্রান্তকারী ও চরম ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের। পতন ঘটেছিল এ দেড় দশকের পরাক্রমশালী স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। শুধু পতন ঘটেছে বললে ভুল হবে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তোপে শেষমেশ তাঁকে দেশ ছেড়েই পালিয়ে যেতে বাধ্য হতে হয়েছে। এটা শুধু আমাদের জাতীয় ইতিহাসের বিরল কোনো বিষয়বস্তু নয়, সমগ্র পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসেও এ এক বিরল ঘটনা।
কারণ…
একটি সরকারের সমগ্র মন্ত্রিসভা, সংসদ সদস্য এবং শাসনযন্ত্রের ধারক-বাহকরা যেভাবে জনরোষের তীব্র তোড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে প্রাণভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, সেই সত্য আজও প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের হৃদয়ে দোলা দেয়। তাদের অন্তর আলোড়িত হয়। কিন্তু এসব কিছু ছাপিয়ে প্রশ্ন ওঠে আরও অনেক কিছু নিয়েই।
রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, রাজপথের কান্না আর হাজারো শহীদের উষ্ণ রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা যে সফল গণ-অভ্যুত্থান—তার সুফল আজ কার ঘরে যাবে? ইতিহাসের ঝড় তোলা এই গণ-অভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ডই বা কারা ছিল? রক্তনদী পাড়ি দিয়ে কারা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে এই আন্দোলন? এই প্রশ্নগুলো ঘিরেই বাংলার আকাশে-বাতাসে আজ ভেসে বেড়াচ্ছে নানা ধাঁচের রাজনৈতিক বিতর্ক, ক্ষমতার চেয়ার নিয়ে টানাটানি কিংবা কাদা ছোড়াছুড়ির খেলা।
রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক অভ্যুত্থানের পর এসব প্রশ্ন কিংবা বিতর্কগুলোই আসলে নোংরামির একটা নামান্তর। এসব বিতর্ক দেশকে আসলেই সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, নাকি দেশকে ফেলে দিচ্ছে চরম এক সংকটে, সেটাও আজ এক বড় প্রশ্ন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে তাই অন্তরের গভীরতম আকুতি থেকে কিছু ‘নির্মম ও কঠিন’ সত্য কথা সামনে আনাটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি জানি, এসব কথা অনেকের কাছে বিষমাখানো তীরের মতো। অনেকের কাছে এসব কথা শুধু বিষমাখানো কোনো তীর নয়, বরং এগুলো তাদের অহংকারের সুউচ্চ মিনারে আঘাত হানার মতো প্রলয়ংকারী কোনো টর্নেডো-ঘূর্ণিঝড়।
আপনারা একটা কথা খেয়াল করেছেন কি না—প্রায়ই মিডিয়ার সামনে কিংবা টকশোতে এসে বলা হয়, ‘আমরা এক ফ্যাসিস্টকে তাড়িয়েছি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে জায়গা দেওয়ার জন্য নয় কিংবা বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যা করতে পারেনি, তা আমরা মাত্র দেড় মাসে করে দেখিয়েছি।’
এগুলো কি নিছক কোনো রাজনৈতিক বয়ান, নাকি টকশোতে ঘটে যাওয়া কোনো তর্ক-বিতর্ক-কুতর্ক? মনে রাখবেন, এসব কথা যখন আপনি বলছেন, তখন আপনি এ দেশের সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষের বুকেও আঘাত করছেন, তাদের মনের ভেতর ঝড় তুলছেন। শেখ হাসিনাকে তাঁর সিংহাসন থেকে কেউ একা তাড়ায়নি। আপনারাও নন। এই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথে বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে দিয়েছিল যে সাধারণ রিকশাচালক, মেহনতি শ্রমিক, ছোট ব্যবসায়ী, গৃহিণী কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার চেনা-অচেনা নানা বয়সের কর্মী, তারাও কিন্তু এই রক্তস্নাত আন্দোলনের প্রকৃত মালিক।
যারা কথায় কথায় অহংকার দেখিয়ে আজ এই মানুষগুলোকে অপমান করছেন, তারা মনে হয় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন থেকে পাওয়া শিক্ষাগুলো বেমালুম ভুলে বসে আছেন। কারণ, ফ্যাসিবাদী শাসনের দিনগুলোতে আমরা দেখেছি, শেখ হাসিনা খুব গর্বভরেই নিজেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র ইজারাদার মনে করতেন। সেই সাথে মনে করতেন, তিনি ও তাঁর দল স্বাধীনতার একক মালিক। সময়ের পরিক্রমায় শেখ হাসিনার এই দম্ভই তাঁকে আজ ইতিহাসের এক করুণ ও অপমানজনক পরিণতির মুখোমুখি করেছে। এবং দুঃখের বিষয় হচ্ছে, যারা সাধারণ ছাত্র-জনতার এই গণ-অভ্যুত্থানকে নিজেদের একক সম্পত্তি মনে করছেন, তারাও নিশ্চিতভাবে শেখ হাসিনার পথেই হাঁটছেন। সমস্যা নেই, হাঁটতে থাকুন। ইতিহাসের ভুল পথের সেই পথচলাই একদিন আপনাদের করুণ পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এতগুলো মানুষের অবদান কিংবা রক্তদানকে নিজেদের একক সম্পত্তি মনে করতে শুরু করলে ইতিহাস আপনাদেরও ক্ষমা করবে না।
এই ব্যাপারগুলো নিয়ে আরেকটু গভীরভাবে চিন্তা করি। কারণ, কিছুটা গভীরভাবে চিন্তা করলেই বোঝা যায়, রাজনৈতিক ও সামাজিক যেকোনো পরিবর্তনের পেছনে রসায়নের ‘টাইট্রেশন’ প্রক্রিয়ার মতো একটি পরম গাণিতিক হিসাব কাজ করে। যারা এই বিক্রিয়াটি নিজ হাতে করেছেন, তারা জেনে থাকবেন, টাইট্রেশনের সময় কেমিক্যালের রং পরিবর্তন হয় ঠিক ২১তম ফোঁটাটি যোগ করার পর। কিন্তু ২১তম ফোঁটাটি কেবল তখনই কাজ করে, যখন তার আগে ধৈর্য ধরে অত্যন্ত নিখুঁত প্রক্রিয়ায় আরও ২০টি ফোঁটা একের পর এক যুক্ত করা হয়। এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যদি আগের ২০টি ফোঁটা পাত্রে জমা না হতো, তবে ওই ২১তম ফোঁটাটির নিজস্ব কোনো ক্ষমতা বা অস্তিত্ব কিন্তু থাকত না। ঠিক একইভাবে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান হলো বিগত দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিভীষিকাময় অন্ধকারে টিকে থাকা সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের চরম ও ভয়াবহ এক বিস্ফোরণ।
আন্দোলনের গল্পটা আমার মনে হয় আরও গভীর থেকে শুরু করা দরকার। খুব সতর্কভাবে আমাদের মনে রাখতে হবে, বিগত দেড় দশক ধরে প্রতিদিন যে অগণিত মানুষ খুন হয়েছেন, গুমের শিকার হয়ে আয়নাঘরে বন্দি থেকেছেন, ভুয়া মামলায় জেল খেটেছেন এবং নিজেদের ভোটাধিকার হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, তাদের প্রতিদিনের দীর্ঘশ্বাস ও যন্ত্রণাগুলোয়ই এই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মূল ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল। বিশেষ করে, দীর্ঘ এই অমানিশার পর্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোটি কোটি নেতাকর্মী যে অবর্ণনীয় জুলুম সহ্য করেছেন, রাজপথে বুক পেতে দিয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেসব ত্যাগ-তিতিক্ষাই মূলত বিন্দু বিন্দু জল থেকে মহাসমুদ্রে পরিণত হয়ে এক দুর্নিবার জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে, যা চব্বিশের জুলাই-আগস্ট মাসে স্বৈরাচারের প্রাসাদ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কথা বাদ দিলেও এমন হাজারো শহীদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে এবং থাকবে, যারা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কেবল দেশের গণমানুষের স্বাধীনতার জন্য ছাত্র-জনতার সাথে একাত্ম হয়ে নিজেদের জীবনটা পর্যন্ত অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে গেছেন। মহান এই আত্মত্যাগগুলোকে যারা খাটো করে দেখছেন কিংবা নিজেদের একক কৃতিত্ব হিসেবে আজ দাবি করছেন, তারা ইতিহাসের সাথে নিশ্চিতভাবে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। সেই সাথে নিজেদের অসততাগুলোও নির্লজ্জভাবে মানুষের সামনে উপস্থাপন করছেন।
আমাদের মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের বুকজুড়ে তৈরি হওয়া সবচেয়ে বড় ক্ষতটি ছিল নাগরিক হিসেবে নিজেদের স্বাধীন ভোটাধিকার হারিয়ে ফেলা। নিজের ভোট নিজে দিতে না পারার আক্ষেপ এ দেশের মানুষকে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে। সেই সাথে সব অন্যায়-অনাচার-নিপীড়ন যখন তার এভারেস্ট ছুঁয়েছে, তখন মানুষ হয়ে উঠেছে এক ও ঐক্যবদ্ধ। যার ফলাফল গণ-অভ্যুত্থান।
কিন্তু এ গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বার্থান্বেষী কিছু মানুষজন খুব প্রকট হয়ে ধরা পড়ল জাতির সামনে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর যখন সমগ্র দেশবাসী নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করল, যখন এক নতুন সূর্য তাদের মাথার ওপর আলো ছড়াতে লাগল, তখনই একটি বিশেষ মহল আবির্ভূত হলো চক্রান্তকারী হিসেবে, যারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রাণান্তকর চেষ্টা করে গেছে নির্বাচনটাকে আটকে রাখতে। এ হেতু বাস্তবায়নে তাদের অজুহাতের শেষ ছিল না। সস্তা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু দাবি নানাভাবে প্রচার করতে লাগল তারা। যেমন: ‘স্যারকে আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় দেখতে চাই।’ কিংবা, ‘এতগুলো মানুষ নির্বাচনের জন্য জীবন দেয় নাই’ ইত্যাদি ইত্যাদি। এরকম হাজারটা অজুহাত, দাবি-দাওয়া সামনে এনে তাদের উদ্দেশ্য ছিল মূলত একটাই, জনগণের বহুল প্রতীক্ষিত একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনকে প্রায় অনন্তকালের জন্য পিছিয়ে দেওয়া।
কিন্তু জনগণ যদি কোনো কিছু চায়, তার বিপরীতে হাঁটার সাধ্যি কার, বলুন! তাই ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত টেকেনি। কারণ, দেশের মানুষের খুব ভালো করে জানা ছিল, রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং একনায়কতন্ত্রের ছাইভস্ম থেকে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে একজন সুদূরপ্রসারী, অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের নেতৃত্ব অপরিহার্য। শেষ পর্যন্ত এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই এমন একজনের হাতে দেশের আপামর জনতা রাষ্ট্র শাসনের ভার তুলে দিয়েছেন, যিনি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে স্বৈরাচারের শত নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা মামলার পাহাড় মাথায় নিয়েও প্রবাসে বসে কোটি কোটি নেতাকর্মীকে অভিভাবকের মতো আগলে রেখেছিলেন। সেই সাথে তিনি দেশের প্রতিটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নিভু নিভু শিখাকে অনির্বাণ অগ্নিশিখায় পরিণত করেছেন।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী, জনতার প্রধানমন্ত্রী—জনাব তারেক রহমান।
তিনি সেই মানুষ, যিনি দীর্ঘ নির্বাসনের জীবন কাটিয়েও দেশের মানুষের সার্বিক মুক্তি ও রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের জন্য ঐতিহাসিক ‘৩১ দফা’ রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন। কী এই ৩১ দফা? এটি মূলত একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার অমূল্য সনদ। এই ৩১ দফাই সেই যুগান্তকারী সংস্কার বার্তা ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি, যা এ দেশের সচেতন তরুণ সমাজ এবং আপামর জনতার হৃদয়ে এক নতুন আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছে। আর এই প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়েই জনগণ নিঃসংকোচে নির্বাচনে তাদের সার্বভৌম ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।
এরপর ক্ষমতার চেয়ারে বসেই তারেক রহমান তাঁর গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী নেতৃত্বে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুরু করেছেন সুশাসনভিত্তিক একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার কাজ। সেই সাথে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন নির্বাচনের সময় দেওয়া তাঁর প্রতিশ্রুতিগুলোও। মনে রাখতে হবে, জনগণের হাতের আঙুল থেকে তখনও নির্বাচনের কালির দাগ শুকায়নি। কিন্তু সেই দাগ শুকানোর আগেই রাজনীতির মাঠে যে নোংরা চর্চাগুলো শুরু হয়েছে, সেগুলো দিয়ে অভ্যুত্থানের বিজয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। এগুলো মেনে নেওয়ার মতো নয়, কোনোদিন মেনে নেওয়াও হবে না। বরং আমাদের একটি কথা সুস্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে, এই রাষ্ট্রে ক্ষমতার একমাত্র এবং চূড়ান্ত মালিক এ দেশের সাধারণ জনগণ। কাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে বসাতে হবে আর কাকে রাজনীতির ময়দান থেকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক অধিকার কেবল জনগণের হাতেই ন্যস্ত।
এসব কিছু মাথায় রেখে তাই দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন—আসুন, আমরা অতীত আর বর্তমানের অহংকার, একক কৃতিত্বের দাবি এবং অনৈক্য সৃষ্টির সকল মানসিকতা দূরে ঠেলে এক হয়ে সামনে এগিয়ে যাই। ইতিহাস সাক্ষী, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী যখন জনগণের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদার তোয়াক্কা না করে স্বৈরাচারী ভঙ্গিতে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে চায়, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে জনগণ তাদের ঘৃণা করতে শুরু করে। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে জনগণ তাদেরকে একেবারে ছুড়ে ফেলে দিতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সচেতন দেশবাসী বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে যে, এ দেশের মানুষ আর কোনোদিন দেশকে কোনো নতুন ফ্যাসিবাদের চারণক্ষেত্র হতে দেবে না। যুগে যুগে তারাই এগিয়ে গেছে এবং টিকে থেকেছে, যারা জনরায়কে বিনম্র শ্রদ্ধায় গ্রহণ করেছে। তাই আসুন, অতীতের সকল রক্তক্ষয় ও আত্মত্যাগকে স্মরণে রেখে দেশনায়ক জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আর এই একতাই গড়ে তুলবে একটি বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশ, যেখানে সাম্যই হবে আমাদের সবার মূলনীতি।

Author